মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক :: ভারত থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহেই ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে টাকা পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ জন্য শিগগিরই ৬০০ কোটি টাকার বেশি অগ্রিম হিসেবে ব্যাংকে জমা দেওয়া হচ্ছে। দেশে চলতি মাসের শেষ অথবা তার আগেই টিকা পাওয়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সেরাম ইনস্টিটিউটে চলতি সপ্তাহেই অর্থ পাঠানো হবে। সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছে আরও বেশি টিকা চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা তিন কোটি ডোজের বেশি দিতে রাজি হয়নি। এখন আবার তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। তারা আরও কিছু টিকা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। শনিবার মানিকগঞ্জে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ কথা জানান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন ছাড়া টিকা আনা হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য এবং সেদেশে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এছাড়া ভারতও অনুমোদন দিয়েছে। আমাদের ঔষধ নীতি অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ সাতটি দেশ ও প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন থাকলে সেই ওষুধ বাংলাদেশে ব্যবহার করা যাবে। এরমধ্যে যুক্তরাজ্য রয়েছে। এরপরও বাংলাদেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর যাচাই-বাছাই করে অনুমোদনের পরই দেশে টিকার প্রয়োগ শুরু হবে। দেশের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে সরকার অব্যাহত চেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। এরপরই সেরাম ইনস্টিটিউটসহ টিকা উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। চীনের একটি কোম্পানিও টিকা দিতে চায় বাংলাদেশকে। তার আগে ট্রায়াল, এমনকি বাংলাদেশেই টিকা উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে তারা। এর বাইরেও আরও বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ১৮ বছরের নিচে, প্রসূতি ও বিদেশে থাকা নাগরিকদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জাহিদ মালেক বলেন, দেশে বর্তমানে ১৮ বছরের নিচে রয়েছে প্রায় ৩৭ ভাগ মানুষ, ৩০ লাখের মতো প্রসূতি এবং প্রায় এক কোটি মানুষ বিদেশে অবস্থান করছেন। সবমিলে প্রায় ছয় কোটি মানুষের টিকার প্রয়োজন হবে না। এরপর ১০ কোটি মানুষ থাকবে। তাদের জন্য অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা থেকে তিন কোটি ডোজ এবং কোভ্যাপের মাধ্যমে ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া যাবে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের টিকা নিশ্চিত হবে। বাকি জনগোষ্ঠীর জন্য টিকা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে। সুতরাং টিকাপ্রাপ্তি নিয়ে সংকট হবে না।
তবে এসব কিছুর পরও করোনামুক্ত থাকতে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।